Showing posts with label কুরআন ও হদীস. Show all posts
Showing posts with label কুরআন ও হদীস. Show all posts
রমজানের উপহার (পাপ থেকে মুক্তির উপায়-৪)
রমজানের উপহার (পাপ থেকে মুক্তির উপায়-৪)
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা কর। অনেকেই মনে করেন এখানে ধৈর্য বলতে রোজা বা সংযমকে বোঝানো হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, রোজা আত্মরক্ষার ঢালস্বরূপ।রমজানে পাপ থেকে মুক্ত থাকার প্রশিক্ষণ নেয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে পাপের কুফল ও পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। কোনো কোনো পাপ সংযমের বাঁধ ভেঙ্গে দেয়। যেমন-মদ ও নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন, জুয়া খেলা,তামাশা ও বিদ্রূপপূর্ণ খেলায় অংশগ্রহণ, অপর মানুষের দোষ-ত্রুটি নিয়ে গল্প করা এবং সন্দেহবাদী ও নাস্তিকদের সাথে ওঠাবসা করা (আনিসুল লাইল, ইমাম জাফর সাদিক) কোনো কোনো পাপ দুর্যোগ ডেকে আনে । যেমন-চুক্তি ভঙ্গ করা, লজ্জাজনক কাজ প্রকাশ করা,আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশের বিপরীত রায় দেয়া, জাকাত দিতে অস্বীকার করা বা বাধা দেয়া, মাপে কম দেয়া। (মালবুবি) কোনো কোনো পাপ নিয়ামতগুলোকে গজবে পরিবর্তিত করে দেয় । যেমন-মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ করা, একজন আলেমকে চুপ করিয়ে দেয়া বা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা, আল্লাহর রহমতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া এবং আল্লাহর সাথে শরীক করা, নিজের দারিদ্র প্রচার করা, আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হওয়া ও আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা (ইমাম জাফর সাদিক,আনিসুল লাইল)
কোনো কোনো পাপ দোয়া কবুল হবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন-বিকৃত ঈমান পোষণ, দোয়া কবুল হবার ব্যাপারে অবিশ্বাস, ভাইয়ের প্রতি মোনাফেকি, সময়মত নামাজ না পড়া এবং পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন না করা। (প্রাগুক্ত)
কোনো কোনো পাপ দুর্ভাগ্য বা কষ্ট ডেকে আনে । যেমন- যারা কষ্টে আছে তাদের সাহায্য না করা, নির্যাতিত ব্যক্তি, যারা সাহায্য প্রার্থনা করছে, তাদের রক্ষার জন্যে অগ্রসর না হওয়া এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের প্রতিরোধের বিরোধিতা করা (ইমাম যাইনুল আবেদীন, আনিসুল লাইল। )
কোনো কোনো গোনাহ আশাকে বিনষ্ট করে দেয় । যেমন- আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপারে নিরাশ হওয়া,আল্লাহর ক্ষমাশীলতায় আস্থা না রাখা, আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কারো ওপর ভরসা করা এবং আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে অবিশ্বাস করা। (ইমাম জাফর সাদিক)
হাদিসে এসেছে, যার মধ্যে দুটি স্বভাব থাকবে মহান আল্লাহ তাকে বিনা হিসেবে বেহেশত দান করবেন। আর এ দুটি গুণ হল, অল্পে তুষ্টি তথা আল্লাহর দেয়া বরাদ্দে সন্তুষ্ট থাকা এবং গোপন বা নিভৃত স্থানেও আল্লাহকে ভয় করা তথা আল্লাহর ভয়ে পাপ না করা।
বিষয়টি বলতে খুব সহজ হলেও কাজে তা সহজ নয়। আর এ জন্যই দরকার গভীর খোদা-প্রেম। খোদাপ্রেমের শর্ত হল জ্ঞান বা আল্লাহকে জানা। আল্লাহকে জানার উপায় হল তাঁর প্রিয় মহাপুরুষদের ভালোভাবে জানা। আর সব কিছুর আগে জাগিয়ে তুলতে হবে বিবেককে। বিদ্রোহী প্রবৃত্তিকে দমন করা ছাড়া বিবেক জেগে ওঠে না। আর কুপ্রবৃত্তিকে দমনের জন্যই দরকার রোজা যা রমজান মাসের পরও বিশেষ ক'টি দিন ছাড়া সারা বছরের যে কোনো দিনে রাখা যায়।
দোয়ায়ে মাকারিমুল আখলাক বা বা সর্বোচ্চ নৈতিক গুণাবলী' শীর্ষক বিখ্যাত দোয়ার আলোকে আমাদের উচিত মহান আল্লাহর কাছে সম্মানের আবেদনের পাশাপাশি অহংকার থেকেও দূরে রাখার প্রার্থনা করা। আমাদের উচিত মানুষের উপকার করা কোনো স্বার্থ বা বিনিময় পাওয়ার চিন্তা না করেই। উপকার করার পর মানুষকে উপকারের খোঁচা দিলে তা হয়ে পড়ে মূল্যহীন। মানুষ যদি আমাদের অতীতের চেয়ে একটু বেশি সম্মান দেয় তাহলে মনে মনে নিজেকে আরও বেশি বিনয়ী ও হীন করা উচিত। যারা আমাদের কষ্ট দেয় তাদের ক্ষমা করা, যারা আমাদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে তাদেরকে অন্যদের সামনে শ্রদ্ধার সঙ্গ স্মরণ করা, যারা সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, যারা আমাদের বঞ্চিত করেছে তাদের দান করা- এসবই অতি উচ্চ স্তরের মহৎ গুণ। মানুষের ভালো কাজের প্রশংসা করা, তাদের দোষ বা ত্রুটি গোপন রাখা, ঘৃণা, ক্রোধ ও প্রতিহিংসার আগুনকে দমিয়ে রাখা এবং বিবদমান মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে দেয়া- এইসব গুণ অর্জন পবিত্র রমজানের প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য। অধীনস্থদের প্রতি দয়ার্দ্র থাকা, নিজের ক্ষতি হলেও সত্য কথাটি বলা, অনেক সৎকর্ম করলেও তাকে খুব কম বলে মনে করা এবং খুব কম অন্যায় করা সত্ত্বেও তাকে খুব বেশি বলে মনে করাও অতি উচ্চ স্তরের মহৎ গুণ।
রিয়া বা নিজের ভালো কাজকে জাহির করা ইচ্ছা এবং 'ওজব্' বা অনেক ভালো কাজ করে ফেলেছি বা অনেক ভালো মানুষ হয়ে গেছি- এ জাতীয় ধারণা হল দু'টি মারাত্মক ও সূক্ষ্ম পাপ। এইসব পাপ মানুষের সব পুণ্যকে ধ্বংস করে ফেলে।
মহান নবী-রাসূল (আ.) ও ইমামগণ (আ.) সব সময় নিজেদেরকে হীনতম ও তুচ্ছতম ব্যক্তি বলে মনে করতেন এবং মহা-অপরাধী হওয়ার চেতনা নিয়েই আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন করতেন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) প্রতিদিন অন্তত ৭০ বার তওবা করতেন এবং আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করতেন যদিও তিনি কখনও কোনো পাপ করেননি। আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.) এই বলে দুঃখ করতেন, পরকালের সফর কত দীর্ঘ অথচ পাথেয় বা সৎকর্ম কতো কম! তিনি রাতের বেলায় এমনভাবে ক্রন্দন করতেন মনে হয় যেন তাঁকে সাপে দংশন করেছে! তাই নবী-রাসূল ও ইমামদের নীচের পর্যায়ে মুসলমানদের তো উচিত আল্লাহর দরবারে আরো বেশি বিনয়ী হওয়া ও আরও বেশি ক্রন্দন করা। নামাজের সময় উপস্থিত হলে আল্লাহর ভয়ে মহান ইমামগণের মুখের রং বদলে যেত। মহান আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃত খোদাভীরু ও মুমিন হওয়ার তৌফিক দিন।
এবারে পড়া অর্থসহ নবম রোজার দোয়া:
الیوم التّاسع : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ لی فیهِ نَصیباً مِنْ رَحْمَتِکَ الْواسِعَةِ، وَاهْدِنی فیهِ لِبَراهینِکَ السّاطِعَةِ، وَخُذْ بِناصِیَتی اِلى مَرْضاتِکَ الْجامِعَةِ، بِمَحَبَّتِکَ یا اَمَلَ الْمُشْتاقینَ .
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে তোমার রহমতের অধিকারী কর । আমাকে পরিচালিত কর তোমার উজ্জ্বল প্রমাণের দিকে । হে আগ্রহীদের লক্ষ্যস্থল । তোমার ভালোবাসা ও মহব্বতের উসিলায় আমাকে তোমার পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাও ।
রোজার সময় পাঁচটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
রোজার সময় পাঁচটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন
ফারজানা খানম শিমুল
সংযম পালন মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করে, রুচিকে পরিশীলিত করে, ভালো কাজ করার জন্য প্রণোদনা দেয়, সুস্থ মানস ও ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে। কষ্ট সহ্য করার শক্তি, ধৈর্যশক্তি ও সংযম-এ গুণাবলি মানুষ অর্জন করে উপবাস চর্চায়। ভালোভাবে রোজা রাখতে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল করা জরুরি।
১. হতে হবে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে যত্নশীল
রোজা নিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ভাবনার শেষ নেই। রোজায় সেহরি, ইফতার ও শারীরিক সুস্থতা নিয়ে মানুষের মনে এ সময়ে থাকে অনেক জিজ্ঞাসা। এবার দিন বড় হওয়ায় রোজাও রাখতে হচ্ছে অনেকক্ষণ, প্রায় ১৬ ঘণ্টা অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। আর এই মাসে পানাহার থেকে বিরত থাকলেও আমরা সেহরির সময় কম আর ইফতারের সময় অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলি। এতে বেশ কিছু রোজা পার হলেই অনেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। কারণ রোজা রাখা অবস্থায় নিয়মিত কাজকর্মও করতে হয়। তবে আমরা যদি খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে যত্নশীল হই, তাহলে হয়তো অনেক সুন্দরভাবে সিয়াম পালন করতে পারব।
২. মানসিক এবং ধর্মীয় বিশ্বাস
রমজানের এই সময়টিতে স্বভাবতই আমাদের দেহঘড়ির খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। এ ছাড়া আবহাওয়া ও শারীরিক অবস্থার কারণে রোজা রাখতে গিয়ে অনেকে নানা রকম সমস্যায় পড়েন। যদিও মানসিকভাবে শক্ত থাকলে এবং মনে ধর্মীয় বিশ্বাস থাকলে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা যায়। তবে রোজার এই সময়টিতে কারো খাদ্যাভ্যাস যেন তার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সে জন্য খানিকটা সতর্কতারও প্রয়োজন রয়েছে।
৩. খাবার ও খরচে সংযম
রমজান হচ্ছে সংযমের মাস। রমজানে আমাদের খাবার কম হওয়া উচিত। খরচ কম করা উচিত। সেখানে রমজানে আমাদের প্রত্যেকের খাবারের খরচ বেড়ে যায়। এই এক মাস আমরা যেন খাবারের প্রতিযোগিতায় নেমে না যাই।
৪. সঠিকভাবে খাদ্য নির্বাচন
রোজা পালন করতে গিয়ে অনেকে শঙ্কিত বোধ করেন, যদি তাঁদের কোনো অসুস্থতা থাকে। তবে যদি রোগ বুঝে খাওয়া হয়, তাহলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। আবার যাদের কোনো অসুস্থতা নেই, তারাও যদি সঠিকভাবে খাদ্য নির্বাচন করে খান তাহলে তারাও নির্বিঘ্নে এক মাস রোজা রাখতে পারেন। আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে রমজানে যে খাদ্যাভ্যাস লক্ষ করা যায়, তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ সময়ে খাবারের প্রধান পর্যায় দুটি। সেহরি ও ইফতার। আমাদের দেশে সেহরি ও ইফতারের অধিকাংশ খাবারই হচ্ছে চর্বিসমৃদ্ধ এবং তেলে ভাজা। সেহরি ও ইফতারের খাবার নির্বাচনে রোজাদারের বয়স ও শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় রাখা হয় না। কিন্তু এসব দিকে নজর দিতে হবে।

৫. খেতে হবে অল্প পরিমাণে
সারা দিন না খেয়ে থাকার কারণে অনেকে মনে করেন ইফতারে বেশি করে না খেলে শরীর টিকবে না। আসলে শরীর ঠিক থাকবে পরিমিত ও সুষম খাবারের মাধ্যমেই, বেশি খাওয়ার মাধ্যমে নয়। প্রয়োজনের তুলনায় যত বেশি খাবার খাওয়া হবে, ততই এর কুফল ভোগ করতে হবে। কারণ ইফতারি ও সেহরিতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেলে ক্ষুধার ভাব বেশি লাগে। যদি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হয়, তাহলে ক্ষুধাটা অত তীব্র হয় না। ইফতার ও সেহরিতে খুব বেশি পরিমাণে খেলে দিনের বেলায় ক্ষুধার তীব্রতা বাড়ে। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে বমি, পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রাইটিস, পেট ফাঁপা, মাথা ধরা প্রভৃতি। সারা দিন রোজা রাখার পরে ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি খেলে যেমন শরীরের ওজন বেড়ে যায়, তেমনি হজমেও গোলমাল হতে পারে।
লেখক : প্রধান প্রশিক্ষক ও ইনচার্জ, পারসোনা হেলথ
জেনে নিন রোজা রাখার ৫টি শারিরিক উপকারিতা
জেনে নিন রোজা রাখার ৫টি শারিরিক উপকারিতা
রোজা রাখা শুধু ধর্মীয় অনুভূতির জন্য নয়, স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কার্যকরী৷ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে ভূমিকা রাখে রোজা। এর উপকারিতা সম্পর্কে জার্মানিতে একটি সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে, শতকরা ৫৫ জন জার্মান একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। একটি অ্যামেরিকান গবেষণা থেকে জানা যায়, রোজা রাখলে তা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
দূষিত পদার্থ বের করে দেয়
ফাস্টফুড, সাদা রুটি, পিৎসা জাতীয় তৈরি খাবার শরীরের ভেতরে ঢুকে ‘টক্সিন’ বা দূষিত পদার্থে রূপান্তরিত হয়৷ এগুলো শরীর থেকে বের হওয়া জরুরি৷ আর সে ক্ষেত্রেই কাজে আসে উপোস করা৷ সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট এবং দূষিত ও ক্ষতিকারক পদার্থগুলো বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে বের হয়ে যায়৷ তাছাড়া রোজা রাখলে অনেকটা সময় না খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণও কিছুটা কমে, ফলে গ্যাসট্রিকের ব্যাথাও কম হয়।
ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক
সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীরের ‘গ্লুকোজ’ বা শর্করা জাতীয় খাবারের দ্রুত ক্ষয় হয় এবং তা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়৷ এর ফলেই ‘ইনসুলিন’-এর উৎপাদন কমে যায় এবং তা প্যানক্রিয়াসকে খানিকটা বিশ্রাম দেয়৷ গ্লুকোজ ক্ষয়ের ফলে শরীরে ‘গ্লাইক্লোজেন’ তৈরি হয় এবং ‘ব্লাডসুগার’ কমে ডায়বেটিস প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
রক্তচাপ হ্রাস করে
না খেয়ে থাকা অবস্থায় শরীরে গ্লুকোজ ও চর্বিকণাগুলোর ক্ষয় হয়ে শক্তি উৎপাদন হয় এবং ‘মেটাবলিক রেট’ কমে৷ তাছাড়া অন্যান্য হরমোনের মতো ‘স্ট্রেস হরমোন’-ও কমে, ফলে রক্তচাপও কমতে পারে৷ এছাড়াও রোজার মাসে ধূমপান কম করা হয়৷ তাই এটা ধূমপান একেবারের মতো ছেড়ে দেবারও একটা পরীক্ষা হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে৷ সারাদিন রোজা রাখলে শরীরে ‘কোলেস্টোরল’-এর পরিমাণও কিছুটা কমে, ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে।
ওজন কমে

রোজা বা সংযমের মাসে সারাদিন না খাওয়াতে পাকস্থলী কিছুটা ছোট হয় তাই ওজন কমানো হয় সহজ৷ এই অভ্যাস রোজার পরে অব্যাহত রাখলে ওজন নিয়ে আর কোনো চিন্তাই থাকে না৷ অনেক জার্মান কোনো উৎসব বা উপলক্ষ্যে বেশি খাওয়া-দাওয়ার পর অথবা বছরে এক বা দু’বার নিয়ম করে কয়েকদিন উপোস করেন৷ এই উপোসের সময় খাবারের তালিকায় থাকে সেদ্ধ শাক-সবজি, সবজির স্যুপ, গ্রিন টি, অর্থাৎ প্রচুর পানি জাতীয় খাবার৷ যা শরীরকে হালকা ও পরিষ্কার করে।
রোজার পরেও সুন্দর ও ফিট থাকুন
রোজা যেহেতু এখন গরমের সময় হচ্ছে, তাই বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়৷ তাই ইফতারের সময় ভাজা, পোড়া কম খেয়ে বিভিন্ন মৌসুমি ফল, ডাবের পানি ও তরমুজ খাওয়া স্রেয়৷ তরমুজ হার্ট, ধমনী, কিডনির জন্য খুব উপকারী৷ তাছাড়া আম, কাঁঠাল, আনারস, বাঙ্গি থাকতে পারে ইফতারের টেবিলে৷ এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন এ আর সি, যা ‘অ্যান্টি অক্সিডেন্ট’ হিসেবে কাজ করে এবং রোজার পরেও ত্বক সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখে।
রোজা ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ।
রোজা ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
রমজান শুরু হয়ে গেছে, প্রত্যেক মুসলমানের দরজায় কড়া নাড়ছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে রোজা রাখার তৌফিক দিন এবং আমাদের রোজা এবং আমলসমূহ কবুল করুন।
রোজা ফরজ হওয়ার দলিল:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। [২:১৮৩]
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [২:১৮৪]
বিশ্লেষণ:
আলোচ্য আয়াতদ্বয়ে এই উম্মতের ঈমানদারগণকে উদ্দেশ্য করে আল্লহতায়ালা রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। রোজা হলো একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ও যৌনাচার হতে বিরত থাকা। এর দ্বারা আত্নার পরিশুদ্ধি ও স্বভাবের পরিমার্জনা অর্জিত হয়।আল্লাহতায়ালা এই নির্দেশের সাথে সাথে আরো বলেন-তোমাদের পুর্ববতী উম্মতগণের ওপর ও রোজা ফরজ করা হয়েছিলো।তারা তা পালন করতে যত্নবান ছিলো। আল্লাহতায়ালা অন্য আয়াতে বলেন-
আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য পথ ও পদ্ধতি নির্ধারন করে দিয়েছি।যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন অবশ্যই সকলকে একই উম্মত করে দিতেন।কিন্তু তোমাদেরকে যা কিছু তিনি দিয়েছেন তা দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য। অতএব তোমরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতার সাথে অগ্রসর হও।
হাদীস থেকে ব্যাখ্যা:
''গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে।''এ নির্দেশ আসার পর সাহাবীগনের কেউ কেউ সাওম পালনে সক্ষম হওয়ার পরও তাদের কেউ কেউ সাওম ত্যাগ করে একদিনের পরিবর্তে মিসকিনকে খাওয়াতো।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ''আর সাওম পালন করাই তোমাদের জন্য উত্তম'' এ আয়াতটি নাযিল হয় যা পূর্বের হুকুমকে রহিত করে এবং সবাইকে সাওম পালনেরই নির্দেশ দেয়া হয়। [রেফারেন্সঃ বুখারী, হাদিস নং: ১২৮১]
রোজা কি?
রোজা শব্দটি ফার্সি শব্দ আমরা আরবী শব্দ থেকে বলছি সিয়াম অর্থ হচ্ছে রোজা। সিয়াম শব্দটি এসেছে সাওম থেকে যার অর্থ বিরত থাকা। পারিভাষিক অর্থে সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সমস্তপ্রকার খাদ্যদ্রব্য, পানিয়দ্রব্য থেকে বিরত থাকা ।
রোজা কার জন্য ফরজ?
রোজা কাদের উপরে ফরজ সে বিষয়ে আলোচনা করছি। রোজা ৮ শ্রেণী মানুষের ওপর ফরজ।
১. মুসলমান হওয়া।
মুসলিম ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা কোন অমুসলিমের জন্য ফরজ নয়।
২. বালেগ হওয়া।
নাবালগের ওপর রোজা ফরজ নয়, অর্থাৎ ১২ বৎসর বয়সের কম বয়স হলে রোজা ফরজ হবেনা।
৩. সুস্থব্যক্তি হওয়া।
শারীরিক ভাবে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা রাখার নিয়ম নাই। তবে সাধারন অসুখ বিসুখ হলে যদি সে রোজা রাখার উপযোগী হয় তবে সে রোজা রাখতে পারবে।
৪.সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী হওয়া।
পাগলের ওপর রোজা ফরজ নয়।
৫.স্বাধীন হওয়া।
পরাধীন নয় এমন ব্যক্তি হওয়া।
৬.সজ্ঞান হওয়া।
অর্থাৎ যিনি রোজা রাখবেন তিনি নিজ জ্ঞানে বা স্বেচ্ছায় আল্লাহর হুকুম পালন করবেন।
৭.মুকিম হওয়া।
অর্থাৎ স্তায়ীবাসিন্দা হওয়া। মুসাফিরের ওপর রোজা ফরজের ব্যপারে একটু ভিন্নতা আছে। যেমন কষ্টসাধ্য ভ্রমন হলে পরবর্তীতে রোজা আদায়ের বিধান আছে। আমি মনে করি বর্তমানে সফর অনেক আরামের সাথে করা যায় তাই সফর অবস্থায় একমাত্র কাহিল হয়ে না পড়লে রোজা রাখা উচিৎ।
৮.তাহীরা
অর্থাৎ পবিত্রতা
হায়েজ-নেফাস মুক্ত হতে হবে।
শেষ কথা
অনেকদিন আগে পড়েছিলাম প্রায় ১২ বৎসর আগে। প্রয়োজনীয় বইপত্র সংগ্রহে না থাকায় লেখাটা সংক্ষিপ্ত আকারে দিতে হচ্ছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের রোজাসমুহকে কবুল করুন।আমীন
ইসলামের বিধান কী পুরুষের মতো নারীদের স্বপ্নদোষ হলে ?
ইসলামের বিধান কী পুরুষের মতো নারীদের স্বপ্নদোষ হলে ?
বিখ্যাত হাদিসবেত্তা তাবেয়ী ইবনে আবু ওমর [রহ.] হাদিস বর্ণনা করেছেন, হজরত উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত আছে যে, উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহান একদিন রাসুলের [সা.] কাছে এসে আরজ করলো- হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তো সত্যের ব্যাপারে কেনো লজ্জা করেন না।পুরুষদের মতো যদি কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হয় তাহলে সেই নারীর ওপরও কি কোনো কিছু বর্তাবে? অর্থাৎ তারও কি ফরজ গোসল করতে হবে? রাসুল [সা.] বললেন, হ্যাঁ, যদি সে বীর্যের পানি দেখতে পায়, তবে অবশ্যই যেনো সে গোসল করে নেয়। ইমাম আবু ঈসা তিরমিজি [রহ.] বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ।
রাতে অপবিত্র অবস্থায় রোজা রাখার নিয়ম
রাতে অপবিত্র অবস্থায় রোজা রাখার নিয়ম
গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করে সেহরি খেয়ে রোজা রাখলে রোজা হবে কি না?
উত্তরঃ যার ওপর গোসল ফরজ তিনি গোসল না করে খাওয়া-দাওয়া করতে কোনো নিষেধ নেই। তবে এমতাবস্থায় কুলি করে এবং উভয় হাত ধুয়ে পানাহার করাই উত্তম। গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করেই সেহরি খেয়ে রোজা রাখলে রোজা সহি হবে। তবে ফজরের ওয়াক্ত থাকতেই গোসল করে সময় মতো নামাজ আদায় করে নিতে হবে। সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। (মুসলিম হাদিস নং ২৫৯২, বাদায়ে, ১/১৫১)
বিষয়টির প্রমাণ রাসুলের সহধর্মিণী উম্মুল মোমিনীন আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিস—
كان النبي صلى الله عليه و سلم يدركه الفجر في رمضان وهو جنب من غير حلم، فيغتسل ويصوم.
রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে অতিক্রম করতেন। অত:পর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। [বোখারি : ১৮২৯, মুসলিম : ১১০৯।]
রাসুলের অপর স্ত্রী উম্মুল মোমিনীন উম্মে সালামা রা. বর্ণনা করেন:—
كان يدركه الفجر وهو جنب من أهله ثم يغتسل ويصوم.
সহবাসের ফলে না-পাকি অবস্থায় রাসুল সুবহে সাদিক অতিক্রম করতেন, অত:পর গোসল করে রোজা রাখতেন। [বোখারি : ১৯২৬]
একই হুকুম-ভুক্ত হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারীরা। ফজর হওয়ার পূর্বেই যদি তারা পবিত্র হয়ে যায়, তবে গোসল না করেই নিয়ত করে নিবে।
- See more at: http://www.bdmorning.com/others/religon/9824#sthash.RAqbkdWx.dpuf
রোজা নিয়ে কিছু জরুরি মাসায়েল
রোজা নিয়ে কিছু জরুরি মাসায়েল (যা আমাদের জানতেই হবে)
রোজা ফারসি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে দিন। যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয় তাই একে রোজা বলা হয়।আর আরবিতে এর নাম সাওম। যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। শরয়ী পরিভাষায় সুবেহ সাদিকের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলা হয়। দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস রমজানে মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ হয়। আল্লাহর নবী (সা.) ওই সালের রমজান থেকে মোট ৯ বার রমজানের রোজা পালন করেন।
ইসলামের রোকনগুলোর মধ্যে রমজান মাসের রোজার স্থান হলো তৃতীয়- যা প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। এর অস্বীকারকারী কাফের এবং বিনা কারণে পরিত্যাগকারী ফাসেক।
রোজার নিয়ত:
রমজান মাসে রোজার নিয়ত বা অন্তরে ইচ্ছা বা আগ্রহকে দৃঢ় করে নেওয়া জরুরি। মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। যদি কেউ মুখে বা মনে মনে রোজার নিয়ত না করে বা রোজার রাখার জন্য মনস্থির না করে পুরো দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে তবে তা রোজা বলে গণ্য হবে না।
আরবি ভাষায় রোজার নিয়ত- নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্কাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম। এর বাংলা অর্থ-(হে আল্লাহ) আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রমজানের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করছি। আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত।
অথবা নাওয়াইতু আন আছুমা লিল্লাহি তাআলা.. এটুকু বললও হবে। আবার বাংলায় আমি আল্লাহর জন্য রোজা রাখার নিয়ত করছি বললেও কোনো ক্ষতি নেই।
আরবি ভাষায় ইফতারের দোয়া- আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন। এর বাংলা অর্থ- (হে আল্লাহ) আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য ও তোমারই ওপর ভরসা করে রোজা রেখেছিলাম এবং হে রাহমানির রাহিম তোমারই অনুগ্রহ দ্বারা ইফতার করছি।
যেসব কারণে রোজা নষ্ট হয়:
১. নাক বা কানে ওষুধ প্রবেশ করালে।
২. ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে।
৩. কুলি করার সময় গলার মধ্যে পানি চলে গেলে।
৪. নারী স্পর্শ বা এ সংক্রান্ত কোনো কারণে বীর্য বের হলে।
৫. খাদ্য বা খাদ্য হিসেবে গণ্য নয় এমন কোনো বস্তু গিলে ফেললে।
৬. আগরবাতি ইচ্ছা করে গলা বা নাকের মধ্যে প্রবেশ করালে।
৭. বিড়ি সিগারেট পান করলে।
৮. ভুলে খেয়ে ফেলার পর ইচ্ছা করে পুনরায় খাবার খেলে।
৯. সুবেহ সাদিকের পর খাবার খেলে।
১০. বুঝে হোক বা না বুঝে সূর্য ডোবার আগে ইফতার করলে।
১১. ইচ্ছা করে স্ত্রী সহবাস করলে।
যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়:
১. বিনা কারণে জিনিস চিবিয়ে বা লবণ কিংবা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা। যেমন টুথপেস্ট, মাজন, কয়লা ইত্যাদি দিয়ে দাঁত মাজা।
২. গোসল ফরজ অবস্থায় সারাদিন গোসল না করে থাকা।
৩. শরীরের কোথাও শিঙ্গা ব্যবহার করা বা রক্তদান করা।
৪. পরনিন্দা করা।
৫. ঝগড়া করা।
৬. রোজাদার নারী ঠোঁটে রঙিন কোনো বস্তু লাগালে যা মুখের ভেতর চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৭. রোজা অবস্থায় দাঁত উঠানো বা দাঁতে ওষুধ ব্যবহার করা, তবে একান্ত প্রয়োজনে তা জায়েয।
যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না কিংবা মাকরুহও হয় না:
১. মিসওয়াক করলে।
২. মাথায় বা শরীরে তেল লাগালে।
৩. চোখে ওষুধ বা সুরমা লাগালে।
৪. গরমের কারণে পিপাসায় গোসল করলে।
৫. সুগন্ধি ব্যবহার করলে।
৬. ইনজেকশন বা টিকা দিলে।
৭. ভুলক্রমে পানাহার করলে
৮. ইচ্ছা ছাড়াই ধুলাবালি বা মাছি ইত্যাদি প্রবেশ করলে।
৯. কানে পানি প্রবেশ করলে
১০. দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত বের হলে।
যেসব কারণে রোজা না রাখলেও ক্ষতি নেই:
১. কোনো অসুখের কারণে রোযা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেললে অথবা অসুখ বৃদ্ধির ভয় হলে। তবে পরে তা কাযা করতে হবে।
২. গর্ভবতী স্ত্রী লোকের সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ তবে কাযা করে দিতে হবে।
৩. যেসব স্ত্রী লোক নিজের বা অপরের সন্তানকে দুধ পান করান রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে কিন্তু পরে কাযা আদায় করতে হবে।
৪. শরিয়তসম্মত মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রাখাই উত্তম।
৫. কেউ হত্যার হুমকি দিলে রোযা ভঙ্গের অনুমতি আছে। পরে এর কাযা করতে হবে।
৬. কোনো রোগীর ক্ষুধা বা পিপাসা এমন পর্যায়ে চলে গেল এবং কোনো দ্বীনদার মুসলিম চিকিৎসকের মতে রোজা ভঙ্গ না করলে তখন মৃত্যুর আশঙ্কা আছে। তবে রোযা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। পরে তা কাযা করতে হবে।
৭. হায়েজ-নেফাসগ্রস্ত (বিশেষ সময়ে) নারীদের জন্য রোজা রাখা জায়েজ নয়। পরবর্তীতে কাযা করতে হবে।
আরও বিস্তারিত কিংবা দলীল দেখতে চাইলে- মারফিল ফালাহ, আহসানুল ফাতওয়া, বাহরু রাইক, রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া দারুল উলুম।
যাচ্ছে চলে মাহে রমযান
যাচ্ছে চলে মাহে রমযান
এক এক করে যাচ্ছে চলে মাহে রমযান, কি করে দিবো আমি তার প্রতিদান. ক্ষমার আশায় আজও আমি তুলি দুই হাত. কবুল করো আল্লাহ তুমি আমার মোনাজাত.কেয়ামতের দিন যে পিতা-মাতাকে নূরের টুপি পরানো হবে!
কেয়ামতের দিন যে পিতা-মাতাকে নূরের টুপি পরানো হবে!
কেয়ামতের দিন যে পিতা-মাতাকে নূরের টুপি পরানো হবে!কোরআন পড়া ও এর ওপর আমল করার বরকত হলো তেলাওয়াতকারীর মাতা-পিতাকে এমন তাজ [টুপি] পরানো হবে, যার আলো সূর্য থেকে বহু গুণ উজ্জ্বল হবে। আর যদি সেই সূর্য তোমাদের ঘরের মধ্যে হয়, অর্থাৎ সূর্য কোটি কোটি মাইল দূরে থেকেও এত বেশি আলো দান করছে, যদি তা ঘরের মধ্যে এসে পড়ে নিশ্চয়ই বহুগুণ বেশি আলো দান করবে।
হজরত মোয়াজ জোহানি [রা.] বলেন, রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন শরিফ পড়ে ও এর ওপর আমল করে, তার মাতা-পিতাকে কেয়ামতের দিন এমন একটি [নূরের] টুপি পরানো হবে, যার জ্যোতি সূর্যের জ্যোতি থেকেও বেশি হবে। যদি তা তোমাদের ঘরের মধ্যে উদিত হতো! তাহলে যে স্বয়ং কোরআনের ওপর আমল করে, তার এ আমল সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা হতো? [আবু দাউদ]
কোরআন পড়া ও এর ওপর আমল করার বরকত হলো তেলাওয়াতকারীর মাতা-পিতাকে এমন তাজ [টুপি] পরানো হবে, যার আলো সূর্য থেকে বহু গুণ উজ্জ্বল হবে। আর যদি সেই সূর্য তোমাদের ঘরের মধ্যে হয়, অর্থাৎ সূর্য কোটি কোটি মাইল দূরে থেকেও এত বেশি আলো দান করছে, যদি তা ঘরের মধ্যে এসে পড়ে নিশ্চয়ই বহুগুণ বেশি আলো দান করবে। সুতরাং এ হাদিস থেকে বোঝা গেল যে কোরআন তেলাওয়াতকারীর পিতা-মাতার কত বড় সম্মান ও ইজ্জত। কাজেই চিন্তা করে দেখুন, স্বয়ং তেলাওয়াতকারী ও তার ওপর আমলকারী কত বড় সম্মানের অধিকারী হবে। আর পিতা-মাতার ওই মর্যাদা শুধু এ জন্য যে তাঁরাই সন্তানের জন্ম ও শিক্ষার পেছনে অবদান রেখেছেন।
সূর্য ঘরে হওয়া সম্বন্ধে যে উপমা দেওয়া হয়েছে, এতে নৈকট্যের দরুন অধিক আলো অনুভূত হওয়া ছাড়াও আরো একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। তা হলো কোনো জিনিস কাছে থাকলে তার সঙ্গে ভালোবাসা তৈরি হয়, তা একান্ত আপন হয়ে যায়। কিন্তু তা যদি কাউকে বখশিশ দেওয়া হয়, তবে তার জন্য তা কতই না গৌরবের বিষয় হবে। হাদিস শরিফে আরো বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি কোরআন শরিফ পড়ে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, তাকে নূরের তৈরি একটি তাজ পরিয়ে দেওয়া হবে এবং তার মাতা-পিতাকেও নূরের তৈরি দুটি জোড়া পরিয়ে দেওয়া হবে। তারা আরজ করবে, হে আল্লাহ্! এই জোড়াগুলো কিসের বিনিময়ে? তখন এরশাদ হবে, তোমাদের ছেলেমেয়েদের কোরআন পড়ার বিনিময়ে।
হজরত আনাস [রা.] থেকে বর্ণিত, নবী করিম [সা.] বলেন, কেউ যদি তার ছেলেকে কোরআন শরিফ নজরানা পড়ায়, তার পূর্বাপর সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়, আর যে হেফজ করাবে, তাকে কেয়ামতের দিন চতুর্দশীর পূর্ণচন্দ্রের সমতুল্য করে ওঠানো হবে এবং তার ছেলেকে বলা হবে, পড়তে থাকো। ছেলে যখন একটি আয়াত পড়বে, পিতার একটি দরজা বুলন্দ হতে থাকবে। এভাবে সে পুরো কোরআন শরিফ পূর্ণ করবে। সন্তানকে কোরআন শরিফ পড়ালে এসব মর্যাদার অধিকারী হবে- কথা এটাই নয়। দ্বিতীয় কথা শুনে রাখুন, আল্লাহ না করুক, আপনি যদি ছেলেকে দু-চার পয়সার লোভে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখেন, তবে যে চিরস্থায়ী পুণ্য থেকে আপনি বঞ্চিত থাকলেন। শুধু তাই নয়, আল্লাহপাকের আদালতে আপনাকে রীতিমতো হিসাব দিতে হবে।
হাদিসে বর্ণিত আছে- 'তোমরা প্রত্যেকেই একজন রক্ষক এবং প্রত্যেকে আপন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।' হ্যাঁ, ওইসব দোষত্রুটি থেকে আপনি নিজেকে এবং সন্তানকে রক্ষা করতে যত্নবান হোন। কিন্তু মনে রাখবেন, উকুনের ভয়ে কাপড় না পরে উলঙ্গ থাকা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে কাপড় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। মোটকথা, আপনি যদি সন্তানকে উপযুক্ত দ্বীনদারি শিক্ষা দেন, তবে নিজের জবাবদিহির কোনো আশঙ্কা থাকলই না; বরং যত দিন সন্তান নেক আমল করবে ও আপনার জন্য দোয়া-এস্তেগফার করবে, তা আপনার পদমর্যাদা বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু যদি সামান্য পার্থিব লোভ-লালসায় পড়ে ছেলেকে ধর্মজ্ঞান থেকে বঞ্চিত রাখেন, তবে যে শুধু নিজ কৃতকর্মের প্রতিফল ভোগ করবেন তা-ই নয়; বরং ছেলের সব ধরনের অন্যায় আচরণের একটি ফিরিস্তি আপনার আমলনামায়ও লিপিবদ্ধ হতে থাকবে। আল্লাহর দিকে চেয়ে আপন অবস্থার ওপর একটু সচেতন হোন। নশ্বর দুনিয়া যেকোনো অবস্থায়ই চলে যাবে এবং মৃত্যু যেকোনো মহাবিপদের পরিসমাপ্তি ঘটাবে; কিন্তু আখেরাতে সেই মহা মসিবতের পর আর মৃত্যু আসবে না। এর কোনো পরিসীমা নেই।
পিতা-মাতা সম্পর্কিত হাদীস
পিতা-মাতা সম্পর্কিত হাদীস
১. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসেবলল, সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার বেশি
কোন মানুষের?
তিনি বললেন, তোমার মা।
লোকটা বলল, এরপর কে?
তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা।
লোকটা বলল, এরপর কে?
তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা।
লোকটা বলল, এরপর কে?
তিনি বললেন, এরপর তোমার বাবা।
-বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী
২. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে
জিহাদের জন্য অনুমতি চাইল।
নবীজী স. বললেন, তোমার পিতা-মাতা
জীবীত নাকি?
লোকটা বলল,হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে
তাদের জন্যই পরিশ্রম করো
(এতেই তুমি জিহাদের সওয়াব পাবে)।
-বুখারী, মুসলিম
৩. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে
বলল, আমি আল্লাহর কাছে সওয়াবের
আশায় আপনার হাতে হিজরত ও
জিহাদের ব্যাপারে শপথ করছি।
নবীজী স. বললেন, তোমার
পিতা-মাতার কোনো একজন জীবীত
নাকি?
লোকটা বলল,হ্যাঁ, বরং উভয়ই।
তিনি বললেন, তুমি তো আল্লাহর কাছে
সওয়াব আশা করো।
লোকটা বলল, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, তাহলে তোমার
পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং
তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।
– মুসলিম
৪. একদা নবীজী স. বললেন,
ধ্বংস হোক। ধ্বংস হোক।
পুনরায় ধ্বংস হোক। বলা হলো,
ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার কথা বলছেন?
তিনি বললেন, যে তার পিতা-মাতা
উভয়কে বা কোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায়
পেয়েছে, অথচ এরপরও সে
(তাদের খিদমত করে) জান্নাতে যেতে
পারে নি। -মুসলিম
৫. নবীজী স. বলেছেন, সর্বোত্তম কাজ
হলো, পিতার সৃহৃদদের
(বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন) সাথে
সম্পর্ক রাখা। বুখারী, মুসলিম
৬. নবীজী স. বলেছেন,
পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ সন্তুষ্ট
হন, আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে
আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। -তিরমিযী
৭. আবু দারদা রা. বলেন,
আমি নবীজীকে স. বলতে শুনেছি,
পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা।
যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে
পারো, নতুবা তা সংরক্ষণও করতে
পারো। – তিরমিযী
৮. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, আমি কি
তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা
গোনাহ কোনগুলো তা বলব না?
সাহাবাগণ বললেন,
অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ।
তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে
শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।
বর্ণনাকারী বলেন, এতটুকু বলে
নবীজী স. বসে পড়লেন, এতক্ষণ তিনি
হেলান দিয়ে ছিলেন।
অত:পর নবীজী স. বললেন, মিথা
সাক্ষ্য দেয়া। এ কথাটি তিনি এতবার
বলতে থাকলেন যে আমরা মনে মনে
বললাম, আর যদি না বলতেন!
-তিরমিযী
৯. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, অন্যতম
কবীরা গোনাহ হলো, ব্যক্তি তার
পিতা-মাতাকে গালমন্দ করা।
সাহাবাগণ বললেন, পিতা-মাতাকেও
কি কেউ গালমন্দ করে?
নবীজী স. বললেন, হ্যাঁ। কেউ কারো
পিতাকে গালি দিলে সেও তার পিতাকে
গালি দেয়। আবার কেউ কারো মাকে
গালি দিলে, সেও তার মাকে গালি দিলে।
(এভাবে অন্যের পিতা-মাতাকে গালমন্দ
করলে প্রকারান্তরে নিজের পিতা-মাতাকেই
গালমন্দ করা হয়।) –তিরমিযী
১০. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, তিন রকম
দোয়া নি:সন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের
দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের
জন্য পিতা-মাতার দোয়া। -তিরমিযী
১১. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, সন্তান কোনো
ভাবেই পিতা-মাতাকে প্রতিদান দিতে
পারে না। তবে যদি পিতা-মাতা গোলাম
হয়, তখন তাকে ক্রয় করে আজাদ করে
দিলে হয়ত প্রতিদান হয়। -তিরমিযী
হে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের
সবাইকে পিতা-মাতার হক আদায়ে
তৌফিক দান করুন।
আমিন, সুম্মা আমিন
সব নবিদের যুগেই রোজা প্রচলিত ছিল
সব নবিদের যুগেই রোজা প্রচলিত ছিল
রোজা সব যুগেই প্রচলিত ছিল। পূর্ববর্তী বিভিন্ন ধর্মে রোজা পালনের নিয়ম ছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আদিমানব সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রত্যেক নবী-রাসুলই রোজা পালন করেছেন। রোজা শুধু নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ফরজ করা হয়নি, পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের প্রতিও ফরজ করা হয়েছিল।
বছর ঘুরে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আবারও হাজির রমজানুল মোবারক। পুরো একমাস রোজা রাখার সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ব্যাকুল হয়ে উঠবে বিশ্বের সকল মুসলমান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘ওহে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার।’ (সুরা আল-বাকারা : আয়াত-১৮৩)
রোজা সব যুগেই প্রচলিত ছিল। পূর্ববর্তী বিভিন্ন ধর্মে রোজা পালনের নিয়ম ছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আদিমানব সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত প্রত্যেক নবী-রাসুলই রোজা পালন করেছেন। রোজা শুধু নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ফরজ করা হয়নি, পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের প্রতিও ফরজ করা হয়েছিল।
হজরত নূহ (আ.)-কে ‘দ্বিতীয় আদম’ বলা হয়। তাঁর যুগেও সিয়াম পালন করা হয়েছিল। হজরত আদম (আ.) থেকে হজরত নূহ (আ.) পর্যন্ত চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজা ফরজ ছিল। তাফসিরে ইবনে কাসিরে বর্ণিত আছে, হজরত নূহ (আ.)-এর যুগে প্রত্যেক মাসে তিনটি রোজা পালনের বিধান ছিল। তাফসিরবিদ হজরত কাতাদাহ (র.) বলেন, ‘মাসে তিন দিন রোজা রাখার বিধান হজরত নূহ (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।’
কেউ কেউ লিখেছেন, মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর যুগে ৩০টি রোজা ছিল। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পর আসমানি কিতাব ‘তাওরাত’প্রাপ্ত প্রসিদ্ধ নবী হজরত মুসা (আ.)-এর যুগেও সিয়াম ছিল। হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে আল্লাহর কাছ থেকে তাওরাতপ্রাপ্তির আগে ৪০ দিন পানাহার ত্যাগ করেছিলেন। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে বর্ণিত আছে, হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে ৪০ দিন পানাহার না করে কাটিয়েছিলেন। তাই ইহুদিরা সাধারণভাবে হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণে ৪০টি রোজা রাখা ভালো মনে করত। হজরত দাউদ (আ.)-এর যুগেও রোজার প্রচলন ছিল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হজরত দাউদ (আ.)-এর রোজা। তিনি এক দিন রোজা রাখতেন এবং এক দিন বিনা রোজায় থাকতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) অর্থাৎ হজরত দাউদ (আ.) অর্ধেক বছর রোজা রাখতেন এবং অর্ধেক বছর বিনা রোজা থাকতেন। প্রাচীন খ্রীস্টানরা বুধবার, শুক্রবার ও শনিবারে রোজা রাখত। তারা তাদের ওপর আপতিত বিপদ মুক্তির জন্য রোজা রাখত। চতুর্থ খ্রীষ্টাব্দের শুরুতে খ্রীস্টানদের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসে। সে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য নবী মুসা (আ.)-এর অনুকরণে তারা ৪০ দিনব্যাপী বড় রোজা রাখত।
ইসলামের সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত লাভের আগে আরবের মুশরিকদের মধ্যেও সিয়ামের প্রচলন ছিল। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা অবস্থায় পেলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজকে তোমরা কিসের রোজা করছ?’ তারা বলল, ‘এটা সেই মহান দিন যেদিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর কওমকে (বনী ইসরাইল) মুক্ত করেছিলেন এবং ফেরাউন ও তার জাতিকে নীল দরিয়ায় ডুবিয়ে মেরেছিলেন। ফলে শুকরিয়াস্বরূপ হজরত মুসা (আ.) ওই দিনে রোজা রেখেছিলেন, তাই আমরা আজকে রোজা করছি।’ এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি তোমাদের অপেক্ষা হজরত মুসা (আ.)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিন সওম পালন করেন এবং সবাইকে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) পরিশেষে মাহে রমজানের সিয়াম যখন ফরজ হয় তখন তিনি আশুরার রোজা ছেড়ে দেন। (বুখারি ও মুসলিম) ইসলামের প্রাথমিক যুগে তিন দিন রোজা রাখার বিধান ছিল। পরে দ্বিতীয় হিজরি সালে উম্মতে মুহাম্মদির ওপর মাহে রমজানের রোজা ফরজ হলে তা রহিত হয়ে যায়।
ফয়জুল আল আমীন
[ফয়জুল আল আমীন- ধ্রুপদী এক লেখক। পুরো নাম- সৈয়দ মুহম্মদ ফয়জুল আল আমীন। প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কলাম, সাহিত্য সমালোচনা, গল্প, গবেষণা, কবিতা, ছড়াসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় যার সুদীপ্ত বিচরণ। দেশের প্রথম শ্রেণির প্রায় সব দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও ছোটকাগজে নিয়মিত লিখছেন প্রায় ২০ বছর ধরে। ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে তাঁর গুরু হলেন বাবা। আর সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রকৃতি। ইসলাম ধর্মের নানা দিক ও বিষয় নিয়ে সুদীর্ঘ গবেষণা করেছেন ফয়জুল আল আমীন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্টার, ফিচার লেখক, সাব-এডিটর, সহযোগী সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। একাধিক প্রকাশনা সংস্থায় সিনিয়র লেখক, সম্পাদক ও আরঅ্যা-ডি’র প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে ঙটজওঝখঅগ২৪.ঈঙগ-এ অ্যাসোসিয়েট এডিটর ও পাঠকপ্রিয় একটি সাপ্তাহিকে চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।]
গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নাকে পানি গেলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে?
গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নাকে পানি গেলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে?
ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, রোযা অবস্থায় কুলি করার সময় অথবা নাকে পানি দেওয়ার সময় যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং তা গলায় চলে যায় তবে সে ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করবে এবং পরে তা কাযা করে নিবে। [কিতাবুল আসার, হাদীস : ২৮৭]রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অযু-গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতও যদি গলার ভিতর পানি চলে যায় তবে রোযা ভেঙ্গে যায়। তাই নাকের ভিতর পানি প্রবেশ করার পর যদি তা গলায় চলে যায় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং তা কাযা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা লাগবে না।
ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, রোযা অবস্থায় কুলি করার সময় অথবা নাকে পানি দেওয়ার সময় যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং তা গলায় চলে যায় তবে সে ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করবে এবং পরে তা কাযা করে নিবে। [কিতাবুল আসার, হাদীস : ২৮৭]
আর যদি শুধু নাকে পানি প্রবেশ করে, গলায় না পৌঁছে তবে রোযা ভাঙ্গবে না। [কিতাবুল আসল ২/১৫০, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১৮২৫৩; মাবসূত সারাখসী ৩/৬৬]
জান্নাতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে রোজাদারদের জন্য আলাদা দরজা থাকাবে!
জান্নাতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে রোজাদারদের জন্য আলাদা দরজা থাকাবে!
সাহল ইবনে সায়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল রাইয়ান’; সেখান দিয়ে কেবল রোজাদারগণই কিয়ামতের দিনে প্রবেশ করবে।আরবি হাদিসوَعَنْ سَهلِ بنِ سَعدٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إنَّ في الجَنَّةِ بَاباً يُقَالُ لَهُ: الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَومَ القِيَامَةِ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أحدٌ غَيْرُهُمْ، يقال: أيْنَ الصَّائِمُونَ ؟ فَيَقُومُونَ لاَ يَدخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، فَإذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ». متفقٌ عَلَيْهِ
বাংলা অনুবাদ
সাহল ইবনে সায়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল রাইয়ান’; সেখান দিয়ে কেবল রোজাদারগণই কিয়ামতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সেদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়?’ তখন তারা দণ্ডায়মান হবে। (এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে) তারপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর সেখান দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।”
[বুখারি ১৮৯৬, ৩২৫৭, মুসলিম ১১৫২, তিরমিযি ৭৬৫, নাসায়ি ২২৩৬, ২২৩৭, ইবন মাজাহ ১৬৪০, আহমদ ২২৩১১, ২২৩৩৫]
রমজ়ান মাসের ফজ়ীলত
রমজ়ান মাসের ফজ়ীলত
আবূ-হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে আল্লাহ্র রসূল (সঃ) বলেছেনঃ "যখন রমজ়ানের মাস আসে তখন জান্নাতের দরোজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।"বুখারী হাদীস নং ১৮৯৯ / মুসলিম হাদীস নং ১০৭৯
মাহে রমজানের রোজার ফজিলত ও রোজা ঢাল স্বরূপ
মাহে রমজানের রোজার ফজিলত ও রোজা ঢাল স্বরূপ
আরবি হাদিসوَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللهُ - عَزَّ وَجَلَّ -: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَام، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، فَإِذَا كَانَ يَومُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ: إنِّي صَائِمٌ . وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوْفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ . لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطرِهِ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ». متفقٌ عَلَيْهِ، وهذا لفظ روايةِ البُخَارِي.
وفي روايةٍ لَهُ: «يَتْرُكُ طَعَامَهُ، وَشَرَابَهُ، وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي، الصِّيَامُ لِي وَأنَا أَجْزِي بِهِ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا».
وفي رواية لمسلم: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، اَلْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِئَةِ ضِعْفٍ . قَالَ الله تَعَالَى: إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأنَا أَجْزِي بِهِ؛ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي. لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ . وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ».
বাংলা অনুবাদ
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই; কিন্তু রোজা স্বতন্ত্র, তা আমারই জন্য, আর আমিই তার প্রতিদান দেব।’ রোজা ঢাল স্বরূপ অতএব তোমাদের কেউ যেন রোজার দিনে অশ্লীল না বলে এবং হৈ-হট্টগোল না করে। আর যদি কেউ তাকে গালি-গালাজ করে অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজা রেখেছি।’ সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মদের জীবন আছে, নিঃসন্দেহে রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা বেশী উৎকৃষ্ট। রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে, তখন সে আনন্দিত হয়; (১) যখন সে ইফতার করে (ইফতারের জন্য সে আনন্দিত হয়)। আর (২) যখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, স্বীয় রোজার জন্য সে আনন্দিত হবে।”
বুখারির অন্য বর্ণনায় আছে, সে (রোজাদার) পানাহার ও যৌনাচার বর্জন করে একমাত্র আমারই জন্য। রোজা আমার জন্যই। আর আমি নিজে তার পুরস্কার দেব। আর প্রত্যেক নেকী দশগুণ বর্ধিত হয়।’
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “আদম সন্তানের প্রত্যেক সৎকর্ম কয়েকগুণ বর্ধিত করা হয়। একটি নেকী দশগুণ থেকে নিয়ে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, কিন্তু রোজা ছাড়া। কেননা, তা আমার উদ্দেশ্যে (পালিত) হয়। আর আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। সে পানাহার ও কাম প্রবৃত্তি আমার (সন্তুষ্টি অর্জনের) উদ্দেশ্যেই বর্জন করে।’
রোজাদারের জন্য দু’টি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে। একটি আনন্দ হল ইফতারের সময়, আর অপরটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎকালে। আর নিশ্চয় তার মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভির সুগন্ধ অপেক্ষা অধিক উৎকৃষ্ট।”
[বুখারি ১৯০৪, ১৮৯৪, ৫৯২৭, ৭৪৯২, ৭৫৩৮, মুসলিম ১১৫১, তিরমিযি ৭৬৪, ৭৬৬, নাসায়ি ২২১৫-২২১৯, আবু দাউদ ২৩৬৩, ইবন মাজাহ ১৬৩৮, ১৬৯১, ৩৮২৩, আহমদ ৭২৯৫, ৭৪৪১, ৭৬৩৬, ৭৭৮১, ৭৯৯৬, ৮১৩৮, ৮৯৭২, ৯৬২৭, ৯৬৩১, মুওয়াত্তা মালিক ৬৮৯]
রমজান মাস সম্পর্কিত কিছু হাদিসঃ
রমজান মাস সম্পর্কিত কিছু হাদিসঃ
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানদের জন্য রমযানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমযান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৮৩৬৮, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস-৮৯৬৮, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস-১৮৮৪, তাবারানী হাদীস-৯০০৪, বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান, হাদীস-৩৩৩৫
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إذا جاء رمضان فتحت أبواب الجنة، وغلقت أبواب النار، وصفدت الشياطين.
যখন রমযান মাসের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।-সহীহ বুখারী, হাদীস-১৮৯৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস-১০৭৯ (১), মুসনাদে আহমদ হাদীস-৮৬৮৪, সুনানে দারেমী, হাদীস-১৭৭৫
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন দু’জনের সুপারিশই গ্রহণ করা হবে।-মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৬৫৮৯; তবারানী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৪১৯
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,
من افطر يوما من رمضان متعمدا من غير سفر ولا مرض لم يقضه ابدا، وان صام الدهر كله، … وقد ذكره البخاري تعليقا بصيغة الجزم حيث قال : وبه قال ابن مسعود، وقال الشيخ محمد عوامه : وهذا الحديث موقوف لفظا ومرفوع حكما
যে ব্যক্তি অসুস্থতা ও সফর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে রমযানের একটি রোযাও ভঙ্গ করে, সে আজীবন রোযা রাখলেও ঐ রোযার হক আদায় হবে না।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৮৯৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস : ৭৪৭৬; সহীহ বুখারী ৪/১৬০
হযরত আলী রা. বলেন-
من افطر يوما من رضمان متعمدا لم يقضه أبدا طول الدهر.
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রমযান মাসের একটি রোযা ভঙ্গ করবে, সে আজীবন সেই রোযার (ক্ষতিপূরণ) আদায় করতে পারবে না।- মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৮৭৮
রোযার হালতে গীবত করলে, গালি-গালাজ করলে, টিভি-সিনেমা ইত্যাদি দেখলে, গান-বাদ্য শ্রবণ করলে এবং যে কোনো বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত হলে রোযা মাকরূহ হয়ে যায়। আর এ কাজগুলো যে সর্বাবস্থায় হারাম তা তো বলাই বাহুল্য।
হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- اذا كان يوم صوم احدكم فلا يرفث ولا يصخب ‘তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখে তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে ও হৈ চৈ না করে। -সহীহ বুখারী হাদীস : ১৯০৪;
রমজানের রোযা ফরজ হওয়া। (হাদীস নং ৯৩৪-৯৬৭)
রমজানের রোযা ফরজ হওয়া। (হাদীস নং ৯৩৪-৯৬৭)
মহান আল্লাহ তাআলার বাণী- “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের মত তোমাদের উপরও রোযা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার।” (সুরা বাকারা-১৮৩)
৯৩৪। হাদীস : তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে আগমন করে। তার মাথার চুল ছিল ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত। সে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ)! আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর কত ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছেন? রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত। তবে তুমি যদি নফল নামায পড় তবে তা স্বতন্ত্র কথা। লোকটি বলল,আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর কতটা রোযা ফরজ করেছেন? রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন,গোটা রমজান মাস,তবে তুমি যদি নফল রোযা রাখ তবে তা স্বতন্ত্র কথা। লোকটি আবার বলল, রাসূলুল্লাহ (সঃ)! আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমান যাকাত ফরজ করেছেন? এবার রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে ইসলামের বিধি বিধান জানিয়ে দিলেন। অতপর লোকটি বলল, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য বিধান দিয়ে সম্মানীত করেছেন। মহান আল্লাহ আমার উপর যা ফরজ করেছেন,আমি তা কম বেশি করবো না।
লোকটির মন্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল। অথবা বললেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ), সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।
(ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড, পৃষ্টা ৩৩৩)
রোযার মর্যাদা। (হাদীস নং ৯৩৫)
হাদীসের পাতা থেকে
৯৩৫। হাদীস : আবূ হোরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুল (সঃ) ইশরাদ করেছেন, (গুনাহ হতে বাঁচার জন্য) রোযা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং রোযাদার অশ্লীল কথা বলবে না বা জাহেলী আচরণ করবে না। কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে উদ্যত হলে অথবা গালমন্দ করলে সে তাকে দুই বার বলবে, আমি রোযাদার।
তিনি আরো বলেন, যার হাতে আমার জীবন সেই সত্তার শপথ! রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুগন্ধ হতেও অতি উৎকৃষ্ট। আল্লাহ বলেন, রোযাদার খাদ্য ,পানীয়,ও কামভাব পরিত্যাগ করে আমার উদ্দেশেই রোযা রাখে। সুতরাং আমি তাকে বিশেষভাবে রোযার পুরস্কার দান করবো। আর নেক কাজের পুরস্কার দশ গুণ পর্যন্ত দেয়া হবে। (ছহীহ বোখারী,প্রথম খন্ড,পৃষ্টা ৩৩৩)
যে ঈমান ও বিশ্বাস সহকারে সওয়াবের আশায় রমজানের রোযা রাখে। (হাদীস নং ৯৩৮)
৯৩৮। হাদীস : আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) ইশরাদ করেছেন, যে ঈমান ও বিশ্বাস সহকারে সওয়াবের আশায় শবে কদরে নামায পড়ে এবং রমজানের রোযা রাখবে,তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বোখারী,১/৩৩৪)
ঈদের দু’টি মাসই ঊনত্রিশ দিন হয় না। (হাদীস নং ৯৪০)
৯৪০। হাদীস : আবু বাকরা (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে রেওয়ায়াত করেন,নবী করীম (সঃ) ইশরাদ করেছেন,এমন দু’টি মাস আছে যার উভয়টি (পর পর) ঘাটতি অর্থাৎ ঊনত্রিশ দিন হয় না।আর তা হল ঈদের দু’টি মাস রমজান এবং যিলহজ্ব। (বোখারী,১/৩৩৪)
রমজানের একদিন বা দু’দিন পূর্বে রোযা রাখা যাবে না। (হাদীস নং ৯৪১)
৯৪১। হাদীস : আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) ইশরাদ করেছেন, তোমাদের কেউ রমজানের একদিন বা দু’দিন পূর্বে নফল রোযা রাখা যাবে না। তবে কেউ যদি প্রতিমাসে এ রোযা রাখতে অভ্যস্ত ,তাহলে রাখতে পার। (বোখারী,১/৩৩৪)
সেহরী ও ফজরের নামাজের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান। (হাদীস নং ৯৪৩)
৯৪৩। হাদীস: যায়েদ বিন সাবেত (রা বলের, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা এর সাথে সেহরী খেয়েছি। তার পর নামায পড়তে দাড়িঁয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি যায়দ ইবনে সাবেত (রাঃ)- কে জিজ্ঞাসা করলাম,সেহরী ও আযানের মাঝখানে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন,পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার মত সময়ের ব্যবধান ছিল। (বোখারী,১/৩৩৫)
সেহরী খাওয়ার কল্যাণ বরকত লাভ হয়। (হাদীস নং ৯৪৪)
৯৪৪। হাদীস : হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, তোমরা সেহরী খাও। কেননা সেহরী খাওয়ায় বরকত লাভ হয়। (বোখারী,১/৩৩৫)
রোযাদার ভূলবশতঃ পানাহার করলে,তার হুকুম। (হাদীস নং ৯৪৮)
৯৪৮। হাদীস ; আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, রোযাদার যদি ভুল করে কিছু খায় বা পান করে, তা হলে সে (ইফতার না করে) রোযা পূর্ণ করবে।কেননা আল্লাহ তায়ালা তাকে পানাহার করিয়েছেন। (বোখারী, ১/৩৩৫)
সফরে রোযা রাখা না রাখা উভয়ের অনুমতি আছে। (হাদীস নং ৯৫০)
৯৫০। হাদীস : হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, হামযা ইবনে আমরুল আসলামী (রাঃ) অধিক মাত্রায় রোযা রাখতে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি নবী করীম (সঃ) – কে বললেন, হে রাসুল (সঃ)! আমি সফরেও রোযা রেখে থাকি। নবী করীম (সঃ) বললেন, সফর অবস্থায় তুমি ইচ্ছা করলে রোযা নাও রাখতে পার।
(বেখারী , ১/৩৩৫)
মৃত ব্যক্তির ফরয রোযার কাজা থাকলে করণীয়। (হাদীস নং ৯৫৩)
৯৫৩। হাদীস : হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তির উপর রোযার কাজা থাকলে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে তা আদায় করবে। (বোখারী,১/৩৩৬)
সূর্যাস্তের সাথে সাথে অনতিবিলম্বে ইফতার করা। (হাদীস নং ৯৫৫)
৯৫৫। হাদীস : সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ইশরাদ করেছেন, যতদিন লোকেরা তাড়াতাড়ি (সূর্যাস্তের সাথে সাথে) ইফতার করবে , ততদিন কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে না।
(ছহীহ বোখারী শরীফ,১/ ৩৩৬)
প্রতি মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে রোযা রাখা। (হাদীস নং ৯৫৮)
৯৫৮। হাদীস : হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমার পরম বন্ধু নবী করীম (সঃ) আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করে গেছেন, (১) আমি যেন প্রতি মাসের (১৩,১৪,১৫,তারিখে) তিনটি রোযা রাখি, (২) চাশতের সময় দু’রাকাত নামায পড়ি, (৩) রাত্রে নিদ্রা যাওয়ার আগেই বেতেরের নামায আদায় করি। (বোখারী, ১/৩৩৭)
জুমআর দিন রোযা রাখা। (হাদীস নং ৯৫৯)
৯৫৯। হাদীস : আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি নবী করীম (সঃ) -কে বলতে শুনেছি ,তোমাদের কেউ যেন কখনো শুধু জুমআর দিনে রোযা না রাখে। (যদি রাখতে হয়) তবে জুমআর আগের কিংবা পরের দিনও যেন রোযা রাখে। (বোখারী, ১/৩৩৭)
তারাবীহ নামাযের ফযীলত । (হাদীস নং ৯৬৬)
৯৬৬। হাদীস : আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-বলতে শুনেছি,যে ব্যক্তি রমযানের রাতে ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবীহর নামাযে দাঁড়ায় (নামায আদায় করে), তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বোখারী, ১/৩৩৮)
লাইলাতুল কদরের ফযীলত। (হাদীস নং ৯৬৭)
৯৬৭। হাদীস : হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সঃ) ইশরাদ করেছেন,যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা রাখে , শবে কদরের রাত্রে দাঁড়ায়, তার আগেকার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (বোখারী,১/৩৩৮)
Subscribe to:
Posts (Atom)
