পিতা-মাতা সম্পর্কিত হাদীস
১. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসেবলল, সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার বেশি
কোন মানুষের?
তিনি বললেন, তোমার মা।
লোকটা বলল, এরপর কে?
তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা।
লোকটা বলল, এরপর কে?
তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা।
লোকটা বলল, এরপর কে?
তিনি বললেন, এরপর তোমার বাবা।
-বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী
২. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে
জিহাদের জন্য অনুমতি চাইল।
নবীজী স. বললেন, তোমার পিতা-মাতা
জীবীত নাকি?
লোকটা বলল,হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে
তাদের জন্যই পরিশ্রম করো
(এতেই তুমি জিহাদের সওয়াব পাবে)।
-বুখারী, মুসলিম
৩. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে
বলল, আমি আল্লাহর কাছে সওয়াবের
আশায় আপনার হাতে হিজরত ও
জিহাদের ব্যাপারে শপথ করছি।
নবীজী স. বললেন, তোমার
পিতা-মাতার কোনো একজন জীবীত
নাকি?
লোকটা বলল,হ্যাঁ, বরং উভয়ই।
তিনি বললেন, তুমি তো আল্লাহর কাছে
সওয়াব আশা করো।
লোকটা বলল, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, তাহলে তোমার
পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং
তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।
– মুসলিম
৪. একদা নবীজী স. বললেন,
ধ্বংস হোক। ধ্বংস হোক।
পুনরায় ধ্বংস হোক। বলা হলো,
ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার কথা বলছেন?
তিনি বললেন, যে তার পিতা-মাতা
উভয়কে বা কোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায়
পেয়েছে, অথচ এরপরও সে
(তাদের খিদমত করে) জান্নাতে যেতে
পারে নি। -মুসলিম
৫. নবীজী স. বলেছেন, সর্বোত্তম কাজ
হলো, পিতার সৃহৃদদের
(বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন) সাথে
সম্পর্ক রাখা। বুখারী, মুসলিম
৬. নবীজী স. বলেছেন,
পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ সন্তুষ্ট
হন, আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে
আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। -তিরমিযী
৭. আবু দারদা রা. বলেন,
আমি নবীজীকে স. বলতে শুনেছি,
পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা।
যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে
পারো, নতুবা তা সংরক্ষণও করতে
পারো। – তিরমিযী
৮. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, আমি কি
তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা
গোনাহ কোনগুলো তা বলব না?
সাহাবাগণ বললেন,
অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ।
তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে
শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।
বর্ণনাকারী বলেন, এতটুকু বলে
নবীজী স. বসে পড়লেন, এতক্ষণ তিনি
হেলান দিয়ে ছিলেন।
অত:পর নবীজী স. বললেন, মিথা
সাক্ষ্য দেয়া। এ কথাটি তিনি এতবার
বলতে থাকলেন যে আমরা মনে মনে
বললাম, আর যদি না বলতেন!
-তিরমিযী
৯. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, অন্যতম
কবীরা গোনাহ হলো, ব্যক্তি তার
পিতা-মাতাকে গালমন্দ করা।
সাহাবাগণ বললেন, পিতা-মাতাকেও
কি কেউ গালমন্দ করে?
নবীজী স. বললেন, হ্যাঁ। কেউ কারো
পিতাকে গালি দিলে সেও তার পিতাকে
গালি দেয়। আবার কেউ কারো মাকে
গালি দিলে, সেও তার মাকে গালি দিলে।
(এভাবে অন্যের পিতা-মাতাকে গালমন্দ
করলে প্রকারান্তরে নিজের পিতা-মাতাকেই
গালমন্দ করা হয়।) –তিরমিযী
১০. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, তিন রকম
দোয়া নি:সন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের
দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের
জন্য পিতা-মাতার দোয়া। -তিরমিযী
১১. রাসূলুল্লাহ স. বলেন, সন্তান কোনো
ভাবেই পিতা-মাতাকে প্রতিদান দিতে
পারে না। তবে যদি পিতা-মাতা গোলাম
হয়, তখন তাকে ক্রয় করে আজাদ করে
দিলে হয়ত প্রতিদান হয়। -তিরমিযী
হে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের
সবাইকে পিতা-মাতার হক আদায়ে
তৌফিক দান করুন।
আমিন, সুম্মা আমিন
